বইয়ের নাম : আরণ্যক উপন্যাস PDF Download Available ⤵️ Now
লেখক : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ক্যাটাগরি : চিরায়ত বাংলা উপন্যাস
ব্যক্তিগত রেটিং : ৮.৫/১০
রিভিউ ক্রেডিট : এস. শেহজাদ
বাংলার কালজয়ী ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর 'আরণ্যক' উপন্যাসে রহস্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে মানবজীবনের যে মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন তা এককথায় অপূর্ব। এটি একটি স্মৃতিচারণ মূলক উপন্যাস যেখানে উপন্যাসের কথক সত্যচরণের বর্ণনায় তৎকালীন ভারতবর্ষের পূর্ণিয়া জেলার অংশবিশেষের সৌন্দর্য ও জনজীবনের কথা ফুটে উঠেছে। লেখক ভাগলপুরে অবস্থানকালে সেখানকার অরণ্য,প্রাকৃতিক শোভা ও বনবাসীরা লেখকের মনে যে গভীর ও স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করেছিল এ উপন্যাস তারই ফলশ্রুতি।
উপন্যাসের কাহিনীতে দেখা যায়, বন্ধু মারফত সদ্য চাকরিপ্রাপ্ত তরুণ সত্যচরণ। জমিদারের ম্যানেজার হিসেবে সেই চাকরির খাতিরে তাকে বিস্তৃত এক জঙ্গল ঘেরা জায়গায় প্রায় ছয় বছর অবস্থান করতে হয়।সেখানে সে বনোয়ারী তিওয়ারি, কুন্তা, লাখপতি দিলদরিয়া মহাজন ধাওতাল সাহু, চাষি নকছেদী ভকৎ ও তার পরিবার, বালক নর্তক ধাতুরিয়া, মটুকনাথ, রাজু পাঁড়ে প্রমুখ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মিশেছেন। তাদের জীবনধারণের বৈচিত্র্য সম্পর্কে জেনে বিস্মিত হয়েছে। প্রকৃতির অপার লীলাভূমিতে বাস করেও এর সৌন্দর্য উপভোগের মত চোখ ও মনের অভাব এসব প্রান্তিক লোকেদের মাঝে দেখেছিল সত্যচরণ। তাইতো প্রকৃতি ও বৃক্ষপ্রেমী যুগলপ্রসাদকে তার ভালো লেগেছিল।
কাহিনীর অল্প কিছু অংশে বিদ্যমান ভৌতিক ঘটনাবলী,পরীদের কথা উপন্যাসটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। আছে বুনো মহিষের দেবতা টাঁড়বারোর কথাও। পাহাড়ি রাজপরিবারে সত্যচরণের আতিথ্য গ্রহণ পাঠকদেরকে তৎকালীন আদিম রাজা,রাজকুমার,রাজকন্যাদের সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। এছাড়াওঘাটো,চীনা ঘাস,কলাই ও মকাইয়ের ছাতু প্রভৃতি স্থানীয় গরীব জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
বইটি পড়তে পড়তে আমি যেন বর্ণিত সেই জঙ্গলমহলের রূপ-মাধুর্যের মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম আর ভাবছিলাম জীবন যেখানে যেমন, তা উপভোগও করতে হয় ঠিক তেমন করেই।আশেপাশের পরিবেশকে, আশেপাশের মানুষদেরকে ভালো না বাসতে পারলে একাকীত্ব কখনোই ঘোচে না।
ব্রাহ্মণ,ছত্রী,গাঙ্গোতা,দোষাদ প্রভৃতি বিভিন্ন জাতের মানুষের সাথে সত্যচরণ তথা লেখকের অবাধ মেলামেশা তাদের জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে লেখকের জানার ইচ্ছাকে ব্যক্ত করে।
পাহাড়ি রাজকন্যা ভানুমতীর প্রতি সত্যচরণের অনুরাগ জন্মালেও বিবেচনাবোধের কারণে তাকে সে বিয়ে করেনি। এমনকি দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধানো উচ্চবিত্ত মহাজন রাসবিহারী সিং,ছটু সিং,নন্দলাল ওঝার সাথে বোঝাপড়া করে চলার মনোভাবও লেখকের বিবেচনাবোধেরই প্রকাশ।
' অনুপম নৈসর্গিক,মায়াবী বিন্যাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর 'আরণ্যক' এর শেষাংশে প্রকৃতিদেবী স্বয়ং ট্রাজেডিক পরিণতির স্বীকার হয়েছে। কারণ শেষপর্যন্ত অরণ্যপ্রেমিক সত্যচরণ নিজেই জমিদারের জমি প্রজা বিলি করে এই অপূর্ব বনবীথির শোভা বিনষ্ট করতে বাধ্য হয়েছিল। আর তার সেই অনুতাপ,দুঃখবোধের স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারক্তির মাধ্যমেই শুরু হয় লেখকের 'আরণ্যক' উপন্যাসের প্রস্তাবনা অংশ। বইপ্রেমীদের জন্য এটি একটি মাস্টারপিস।
0 মন্তব্যসমূহ
ℹ️ Your Opinion is very important to us, Please Writer your comment below about this Post.....