কবিতা | নদীর পাড়ের বাড়ি - ফেরদৌস আহমেদ

আমার একটা বাড়ি ছিল পদ্মা নদীর তীরে সাত পুরুষের জনম গেছে খরকুটার এই নীড়ে একটুখানি উঠোন ছিল ছোট্ট ক টা ঘর পাশেই ছিলো বাবা-মায়ের পুরনো কবর। দক্ষিনে এক পুকুর ছিল কানায় কানায় জল দখিন হাওয়ার ঢেউ গুলো তার করত টলমল। হালের দুটো ব*লদ ছিল একটা দুধের গা*ই ওরা যেন ছিল আমার ভগ্নি এবং ভাই। ঘরের মুখে ছিল দুটো লাল গোলাপের চারা সারা বাড়ি থাকতো ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা লাল পুঁইয়ের এক মাচা ছিল আঙ্গিনার এক পাশে পুঁইয়ের ডগা দুলত সেথায় দক্ষিণা বাতাসে। তাজমহলের রূপ ছিল মোর সবুজ-শ্যামল নীড়ে আসতে যেতে পথের পথিক চাইত ফিরে ফিরে। এই বাড়িতে তেমন সুখেই যাচ্ছিল দিন কেটে যেমন সুখে শিশুরা সব ঘুমায় মায়ের পেটে। আমার এ সুখ সইল না ঐ পদ্মা নদীর প্রাণে বান ডেকে সে ঢেউ তুলে মোর বক্ষে আঘাত হানে। ঘরবাড়ি সব ভাসিয়ে নিল ভাসালো দুই আঁখি অশ্রু ছাড়া কিছুই সে মোর রাখল না আর বাকি। কাল যেখানে ছিল আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই আজ সেখানে জলের খেলা আমার কিছুই নাই। বাপ মা আমার ঘুমিয়ে ছিল কাল যে মাটির ঘরে আজ সেখানে নদীর পানি রঙ্গে খেলা করে। সাত পুরুষের স্মৃতির মতন নাই কো কিছুই আর নদীর জলে ভাসছে তাদের গোর কবরের হ...